বিরোধীদের দমন-পীড়ন: সরকারের স... | jamunanews24.com

যমুনা নিউজ: বাংলাদেশে বিরোধীদের ওপর ধরপাকড় এবং নিরাপত্তা হেফা...

বাংলা  
 আন্তর্জাতিক
বিরোধীদের দমন-পীড়ন: সরকারের সমালোচনায় এইচআরডব্লিউ
Published : Friday, 13 January, 2017 at 6:23 PM,  Read :  34  times.
বিরোধীদের দমন-পীড়ন: সরকারের সমালোচনায় এইচআরডব্লিউযমুনা নিউজ: বাংলাদেশে বিরোধীদের ওপর ধরপাকড় এবং নিরাপত্তা হেফাজতে রেখে নির্যাতনসহ ব্যপক দমন-পীড়ন চালাচ্ছে সরকার। এছাড়া বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মী দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে রুখতে সরকার আইন প্রণয়নের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
বিরোধীদের দমন-পীড়ন: সরকারের সমালোচনায় এইচআরডব্লিউ২০১৬ সালের বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট-২০১৭ নামের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। বৃহস্পতিবার সংগঠনটির ওয়েবসাইটে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
বিরোধীদের দমন-পীড়ন: সরকারের সমালোচনায় এইচআরডব্লিউ
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ব্লগার, শিক্ষাবিদ, সমকামী অধিকার কর্মী, বিদেশি নাগরিক এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এছাড়া, উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা বিভিন্নভাবে অবহেলিত হচ্ছে। তাদের অধিকারের সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতেও ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি অনেকে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ারও অভিযোগ করে থাকেন। কিন্তু সরকার নিরব ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ব্লগার, শিক্ষাবিদ, সমকামী অধিকার কর্মী, বিদেশি নাগরিক এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর বেশ কিছু হামলা হয়েছে। বেশিরভাগ হামলার ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করা হলেও বাংলাদেশ সরকার কথিত দেশীয় জঙ্গি সংঘঠনগুলোকে দায়ী করে আসছে। এদের কারও কারও সঙ্গে বিরোধী রাজনীতিবিদদের সংযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছে সরকার।  
বিরোধীদের দমন-পীড়ন: সরকারের সমালোচনায় এইচআরডব্লিউ
জঙ্গি সংগঠনগুলোর সন্দেহভাজন সদস্য কিংবা সমর্থকরা বিভিন্ন কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে এবং হাজার-হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ইচ্ছে করেই বিরোধী দলের সদস্য ও সমর্থকদের পায়ে গুলি চালাচ্ছে। গুলিবিদ্ধরা অভিযোগ করে থাকেন যে, পুলিশি হেফাজতে তাদেরকে গুলি করা হয় এবং পুলিশ একে আত্মরক্ষামূলক উল্লেখ করে মিথ্যা ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে।

রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলোর অনেক সমর্থক ও সদস্য আত্মগোপনে চলে গেছেন। অনেককে অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ কারাভোগ করছেন কিংবা গুম হয়েছেন।

২০১৬ সালে সুশীল সমাজ, মিডিয়া ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপরও সরকারি দমন-পীড়ন জোরালো হয়েছে। দুটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।  এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য বিশেষ আইন পাস করা হয়েছে। ওই আইনের আওতায় এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর অনুমোদন ছাড়া বিদেশি তহবিল গ্রহণ নিয়ে এনজিওগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি আইন পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনে।

এইচআরডব্লিউর ৬৮৭ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে ৯০টিরও বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য সুপারিশ করে বলা হয়েছে, উগ্রবাদী সহিংসতার বিরুদ্ধে অভিযানের সময়ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানানো উচিত।

jamunanews24.com/S.alam/ 13 jan 2017

� পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ �