নিঝুমদ্বীপে জলোচ্ছ্বাস মোকাবে... | jamunanews24.com

এস টি হোসাইন, উপকূল থেকে: বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা সবুজ...

বাংলা  
 এক্সক্লুসিভ
নিঝুমদ্বীপে জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলায় প্রয়োজন বেড়িবাঁধ
Published : Thursday, 1 December, 2016 at 11:55 AM,  Read :  8682  times.
নিঝুমদ্বীপে জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলায় প্রয়োজন বেড়িবাঁধএস টি হোসাইন, উপকূল থেকে: বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা সবুজ প্রকৃতি আর সাগরের ঢেউয়ের আলিঙ্গনে বেড়ে ওঠা দ্বীপটির নাম নিঝুমদ্বীপ।

প্রায় ৭ হাজার ২শ ৭২ পরিবারের ৬৮ হাজার মানুষ নদী ভাঙ্গার আগ্রাসনে বার বার নিঃস্ব হয়েও নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে মাথা ঘুঁচানোর ঠাঁই হিসেবে এ দ্বীপকে বেছে নিয়েছেন।

এখানে দুএকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও সেভাবে ছড়ায়নি শিক্ষার আলো। জীবন-জীবিকার তাগিদে এখানকার অধিকাংশ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস মাছ শিকার এবং কৃষিকাজ।

মাছ শিকারের পাশাপাশি দুবেলা দুমুঠো ভাতের আশায় বছর জুড়ে নিরলস শ্রম দিয়ে  কৃষিকাজ করে সাফল্যের দেখা পাওয়ার আগেই বার বার হেরে যেতে হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে। ঝড়-ঝঞ্ছ্বা, বন্যার পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাস এখানকার মানুষের নিত্য সঙ্গি।

উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার আগেই কৃষকের স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় সাগরের নোনা জলের প্রভাবে। বিনষ্ট হয় ফসল। সারাবছর সাগরের জোয়ারের পানি ক্ষতি করে ফসলি জমিসহ নানা প্রকার ফলজ বৃক্ষের। একটা জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার আগেই আরেকটা জলোচ্ছ্বাস এসে হানা দেয় কৃষকের উৎপাদিত ফসল আর জীবিকার সন্ধানে লড়াই করা মানুষগুলোর অস্তিত্বের ওপর।

এত দুঃখ-দুর্দশার মাঝেও একটু স্বাচ্ছন্দ্যবোধের আশায় এখানকার মানুষগুলোর প্রত্যাশা সরকার যেন তাদের মাথা গোজার ঠাঁইটুকু রক্ষার্থে একটা বেঁড়িবাধ নির্মাণ করে দেয়।

তাহলে যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সাগরের জোয়ারের পানিতে তাদের ফসলি জমিসহ নানা প্রকার ফলফলাদির বৃক্ষ ক্ষতি থেকে রেহাই পাবে।

বলছিলাম দেশের মানচিত্রের একেবারে দক্ষিণের দ্বীপটির কথা। নোয়াখালীর মুল ভূ-খন্ড থেকে ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপটি ভোগৌলিক অবস্থান উপজেলা হাতিয়ার ১১নং ইউনিয়ন হিসেবে।
নিঝুমদ্বীপে জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলায় প্রয়োজন বেড়িবাঁধ
মুন্সি গ্রামের কামাল উদ্দিন, আদর্শ গ্রামের জহির উদ্দিন, বাতায়ন গ্রামের জামাল উদ্দিন, ধানসিঁড়ি গ্রামের আবুল হোসেন এবং যুগান্তর গ্রামের মফিজ উদ্দিনসহ একাধিক কৃষক ও জেলেদের সাথে নিঝুম দ্বীপের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।

তারা জানান, ১৯৮৮ সালে এরশাদ সরকার আমলে ছাপা খতিয়ান এবং সেটেলম্যান জরিপে  তাদেরকে ব্যক্তি মালিকানাধীনে স্থায়ীভাবে বসবাস করার অনুমতি দেয়া হয়।

কিন্তু ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির পাশে সরকারি বন থাকায় সরকার বন ধ্বংসের আশঙ্কায় এখানে (নিঝুমদ্বীপে) বসবাস করা অসহায় এবং দরিদ্র মানুষদের দিকে সুদৃষ্টি দিচ্ছেনা। ফলে আমরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অবিরাম লড়াই করে যাচ্ছি। কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতে পারছি না।

তারা সরকারের সুদৃষ্টির আশায় বলেন, জোয়ারে নোনা পানি থেকে এখানকার উৎপাদিত ফসলের জমি এবং মাছ চাষের পুকুর রক্ষায় সরকার যদি একটা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দেয় তাহলে সারাবছর এখানে (নিঝুমদ্বীপে) উৎপাদিত ফসল এবং মাছ বিদেশে রফতানি করে সরকারের রাজস্ব খাতে বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

তাসলিমা বেগম, রুনা বেগম,  শাখা বেগমসহ একাধিক শ্রমজীবি নারী জানান, বিগত সময়ে সৃষ্ট ঘুর্ণিঝড় রোয়ানু এবং নাডার প্রভাবে এখনো শীতকালীন সবজি উৎপাদন শুরু করতে পারিনি।

তাদের দাবি, দ্বীপের চারদিকে যদি বেড়িবাঁধ থাকতো তাহলে শীতকালীন সবজি উৎপাদন করে উৎপাদিত সবজি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির জন্য সরবরাহ করতে পারতো।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহরাজ উদ্দিন যমুনা নিউজকে জানান, ২০০৮ সালে দ্বীপটি ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষিত হলেও এখনও পর্যন্ত পার্শবর্তী ১০ নং জাহাজমারা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড় হিসেবে সরকারি বরাদ্দ পাচ্ছে। যার ফলে ইচ্ছে থাকলেও সরকারের সুদৃষ্টির অভাবে উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছেনা।

এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে একাধিকবার অভিযোগ পত্র পাঠিয়েও কোন ফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

jamunanews24.com/Rana/01 December 2016

� পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ �