বিশ্বের অন্যতম দুর্ঘটনাকারী ন... | jamunanews24.com

যমুনা নিউজ: গোয়েন্দারা অনুমান করতে শুরু করেন, এই নারীর ক্যামে...

বাংলা  
 আন্তর্জাতিক
বিশ্বের অন্যতম দুর্ঘটনাকারী নারীর খোঁজ মেলেনি আজও
Published : Tuesday, 29 November, 2016 at 5:25 PM,  Read :  11  times.
বিশ্বের অন্যতম দুর্ঘটনাকারী নারীর খোঁজ মেলেনি আজওযমুনা নিউজ: গোয়েন্দারা অনুমান করতে শুরু করেন, এই নারীর ক্যামেরায় এমন কিছু ছবি থাকতে পারে, যা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেবে। সন্ধান শুরু হয় ‘বাবুশ্‌কা লেডি’-র।

১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর তারিখটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম প্রধান দুর্ঘটনার দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। এদিন তারুণ্যের প্রতীক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিকে হত্যা করেন লি হার্ভে অসওয়াল্ড। সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী ছিলেন অনেকেই। তবু সেদিন ডালাসের সেই কুখ্যাত স্পটটিতে উপস্থিত এক নারীর সন্ধান পেতে হন্যে হয়ে যান মার্কি গোয়েন্দারা। কিন্তু দুঃখের

বিষয়, সেই নারীর খোঁজ আজও পাওয়া যায়নি। বিশ্বের অন্যতম অমীমাংসিত রহস্যের একটি বলে ধরা হয় ‘বাবুশকা লেডি মিস্ট্রি’ নামে পরিচিত এই ঘটনাকে।


কেনেডি হত্যার স্পটটিতে উপস্থিত অনেকের ক্যামেরাতেই এই নারীকে দেখা গিয়ছেল। হালকা খাকি রঙের পোশাক পরিহিতা এই মহিলা মাথায় এমন এক স্কার্ফ বেঁধেছিলেন, যা রাশিয়ার বয়স্ক নারীরা বেঁধে থাকেন। এই স্কার্ফটিকে রুশ ভাষায় ‘বাবুশ্‌কা’ বলা হয়। কেনেডিকে যখন মোটর বাইক থেকে গুলি করেন অসওয়াল্ড, তখন সমবেত জনতা আতঙ্কে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। সেই সময়ে তোলা ছবিতেও দেখা যায়, এই নারী বেশ অবিচলিতভাবেই ভিড়ের মধ্যে বিরাজ করছেন। সব থেকে বড় কথা, ছবিগুলিতে দেখা গিয়েছে তারা কাঁধে একটি ক্যামেরাও রয়েছে। গোয়েন্দারা অনুমান করতে শুরু করেন, এই নারীর ক্যামেরায় এমন কিছু ছবি থাকতে পারে, যা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেবে।
সন্ধান শুরু হয় ‘বাবুশ্‌কা লেডি’-র। কিন্তু সমস্যা দাঁড়ায় এখানেই যে, অন্য ক্যামেরাগুলিতে তার যে ছবি তোলা হয়েছিল, তার কোনওটিতেই তার মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।
বিশ্বের অন্যতম দুর্ঘটনাকারী নারীর খোঁজ মেলেনি আজও
‘বাবুশ্‌কা লেডি’-কে কোনও দিনই খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও এফবিআই যুগপৎ জানায়, সেই মহিলা এবং তার তোলা ছবি— কোনওটিরই সন্ধান পাওয়া যায়নি।

১৯৭০ সালে বেভারলি অলিভার নামে জনৈক নারী কেনেডি হত্যা-বিষয়ক গবেষক গ্যারি শ-র সঙ্গে দেখা করে জানান, তিনিই ‘বাবুশ্‌কা লেডি’। হই চই শুরু হয় তাকে ঘিরে। বেভারলি দাবি করেন তিনি একটি সুপার এইট ইয়াশিকা ক্যামেরা দিয়ে গোটা হত্যাকাণ্ডকেই রেকর্ড করেছিলেন। তার পরে দু’জন ব্যক্তি তার কাছে নিজেদের এফবিআই এজেন্ট পরিচয় দিয়ে ফিলমটি দাবি করেন। তিনিও বেমালুম সেটি তাদের ফিল্মটি দিয়ে দেন। বেভারলি তাদের কাছ থেকে কোনো রসিদ নেননি। ফলে চিরকালের জন্য হারিয়ে যায় সেই রেকর্ডিং। কিন্তু মজার ব্যাপার এই যে, ইয়াশিকা সুপার এইট ক্যামেরা বাজারেই আসে ১৯৬৯ সালে। সুতরাং, বেভারলির দাবি পুরো মিথ্যে বলে প্রমাণিত হয়।
বিশ্বের অন্যতম দুর্ঘটনাকারী নারীর খোঁজ মেলেনি আজও
পরে, ১৯৯১ সালে যখন অলিভার স্টোন তার বিখ্যাত ছবি ‘জেএফকে’ তোলেন, তাতে দেখা যায়, বেভারলি নামের এক মহিলা ডালাসের এক নাইট ক্রাবে লুইজিয়ানার ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জিম গ্যারিসনের সঙ্গে দেখা করছেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য দিচ্ছেন। কিন্তু সে তো একেবারেই গপ্পো। ‘বাবুশ্‌কা লেডি’-র সন্ধান কিন্তু কখনওই পাওয়া যায়নি।

মার্কিন দেশের চিররহস্যের অন্যতম এই ‘বাবুশ্‌কা লেডি-ঘটনা’ বার বার ফিরে আসে সেদেশের জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে।

jamunanews24.com/zobaida/29 november 2016

� পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ �