শাহজালালে কাস্টমস কর্মকর্তাদে... | jamunanews24.com

আবুল কাশেম: হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস ও শ...

বাংলা  
 অপরাধ
শাহজালালে কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ
Published : Tuesday, 29 November, 2016 at 12:41 AM,  Read :  810  times.
শাহজালালে কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগআবুল কাশেম: হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস ও শুল্ক বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের ঘুষ আদায় এবং হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তাদের হয়রানি থেকে ভিআইপি, সিআইপি, ব্যবসায়ী এমনকি সাধারণ যাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। শুধু তাই নয়, যাত্রীদের মালামাল কেড়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কাস্টমস ও শুল্ক বিভাগের প্রভাবশালী ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। বিদেশ থেকে আগত ভিআইপি, সিআইপি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা কী পরিমাণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন স্বচোখে না দেখলে তা বিশ্বাস হবে না।

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি এবং মালামাল খোয়া যাবার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। বিমানবন্দরের কাস্টমস ও শুল্ক বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অনেক অভিযোগ প্রায়ই শোনা যাচ্ছে।

জাতীয় দৈনিক, অনলাইন পোর্টাল (অনলাইন পত্রিকা) এবং টেলিভিশনে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস ও শুল্ক বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ এবং নানা অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর হয় তো কিছু দিন হয়রানি বন্ধ থাকে। কিন্তু অর্থলোভী দুর্নীতিবাজ কাস্টমস ও শুল্ক কর্মকর্তারা আবার একই কৌশলে যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন।

রাজধানীর নিউ এলিফ্যান্ট রোডের জনৈক ব্যবসায়ী মো. মিলন মাহমুদ গত ২৪ নভেম্বর শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৯ নভেম্বর দিবাগত রাত ১১টা ১৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে এসে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এরপর কাস্টমস ও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তাকে টানা আড়াই ঘণ্টা বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়।

মিলন মাহমুদ অভিযোগে বলেন, ওইদিন কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী রেভিনিউ অফিসার মো. জুয়েল রানা ও মো. শাহিন তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।

তিনি আরো বলেন, ওই দিন রাতে সিঙ্গাপুর থেকে রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বিমানবন্দরে অবতরণের পর সঙ্গে থাকা মালামালের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ওই দুই কাস্টমস কর্মকর্তার লোক তাকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত আটকে রাখে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি ক্যামেরা এবং তিনটি মোবাইল সেট আটকে রাখে। পরে কাস্টমস বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে দুটি মোবাইল সেটের ওপর নরমাল ট্যাক্স ধার্য করে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এরপর সহকারী রেভিনিউ অফিসার মো. জুয়েল রানা পুনরায় ওই ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। অবশেষে ওই ব্যবসায়ীকে ক্যামেরাটির জন্য ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। শুধু তাই নয়, এই টাকা না দিলে তাকে ছাড়া হবে না বলে হুমকি দেন।

মিলন মাহমুদ অভিযোগে বলেন, ‘কাস্টমস ও শুল্ক বিভাগের সহকারী রেভিনিউ অফিসার মো. জুয়েল রানা দুটি মোবাইল সেটের ওপর আরো ৯ হাজার ১৫০ টাকা ট্যাক্স ধার্য করেন। পরে তিনি বিমানবন্দর জনতা ব্যাংকে চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিলে রাত আড়াইটায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

ব্যবসায়ী মিলন আরো বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তারা ওই সময় তার ব্যবহ্নত পারফিউমের বোতলসহ কয়েকটি ছোট ছোট জিনিস হাতিয়ে নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ধরনের ঘটনা বিমানবন্দরে প্রদিনিয়ত ঘটছে। কিন্তু বিদেশ থেকে আগত লোকজন মান-সম্মানের ভয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ বা অভিযোগ করেন না।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান যমুনা নিউজ টেয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস ও শুল্ক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্কারি এবং যাত্রী হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। অপরাধীদের অবশ্যই সাজা ভোগ করতে হবে।

jamunanews24.com/kashem/Roushan/29 November 2016

� পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ �